১৩৯ আসামির ফাঁসি, ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন

পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দফতরে বিদ্রোহের ঘটনায় সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যায় করা মামলায় ১৩৯ আসামির ফাঁসির রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন পাওয়া ১৬০ আসামির মধ্যে ১৪৬ আসামির যাবজ্জীবনের সাজা বহাল রেখে রায় দিয়েছেন আদালত।

পাশাপাশি বিচারিক আদালতে খালাস পাওয়া ৬৯ জনের সাজা চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা ফৌজদারি আপিলের প্রেক্ষিতে সাজা বাড়িয়ে ৩১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সব মিলে আদালত ১৩৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন, ১৯৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও ৪৯ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

সোমবার (২৭ নভেম্বর) বিচারপতি মো. শওকত হোসেন এর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সর্বসম্মত হয়ে এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর দুই বিচারপতি হলেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া মোট ১৫২ আসামির মধ্যে ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে যাবজ্জীবন ও ৪ জনকে খালাস দেয়া হয়। আপিল শুনানি চলাকালে ইতোমধ্যে বাকি এক আসামির মৃত্যু হয়েছে।

যাবজ্জীবন পাওয়া ১৬০ আসামির মধ্যে তোরাব আলীসহ ১২ আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে। বিচারকাজ চলাকালে ২ আসামির মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে ওই নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়া ৬৯ আসামির ৩১ জনকে যাবজ্জীবন ছাড়া বাকি ৪ জনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড এবং ৩৪ জনের খালাসের রায় বহাল রেখেছে উচ্চ আদালত। একইসঙ্গে আদালত ১৮২ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৮ জনকে সাত বছরের কারাদণ্ড, ৪ জনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। খালাস পেয়েছেন ২৯ জন আসামি।

আসামির সংখ্যার দিক দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য ২০১৫ সালে এই বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দফতরে রক্তাক্ত বিদ্রোহের এ ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। বিডিআর জওয়ানদের ওই রক্তাক্ত বিদ্রোহের পর ৫৭টি বিদ্রোহের মামলার বিচার হয় বাহিনীর নিজস্ব আদালতে। আর হত্যাকাণ্ডের বিচার চলে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত মহানগর দায়রা জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে।

আলোচিত এ মামলায় ৮৫০ আসামির মধ্যে ৫৬৮ জনকে সাজা দিয়েছিলেন নিম্ন আদালত। তাদের মধ্যে ১৫২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল।

সে সময় খালাস পেয়েছিলেন ২৭৭ জন। হাইকোর্টে আপিলের রায়ে নিম্ন আদালতের দেয়া ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে ১৪৬ জনের যাবজ্জীবন ও ১৮২ জনের ১০ বছরের সাজা বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

SHARE

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here