শাকিবের সঙ্গে ‘বিবাহবিচ্ছেদ’, কাউকে কিছু না বলে ভারতে চলে গেলেন অপু বিশ্বাস

আবারও ডুব মেরেছেন অপু বিশ্বাস! আজ সকালেই কাউকে কিছু না বলেই ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। তবে কি শাকিবের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আশঙ্কা সত্যি হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে মুখ খুলেনি কেউ। এদিকে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও শাকিবের সংসারজীবনে মোটেও ভালো নেই তা তিনি কিছু ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন । ঢালিউডে শাকিব যতটা সফল, ঠিক ততটাই যেন সফল হতে পারেননি নিজের সংসারজীবনে!  এর মধ্যে শাকিব খান নাকি মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন ডিভোর্সের জন্য। কিন্তু কেন?

সোশাল মিডিয়া থেকে গণমাধ্যম সবাই শাকিব-অপুর বিবাহ বিচ্ছেদের গুঞ্জনে সরব। সাধারণ মানুষও বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় মেতেছেন। যদিও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে ‘এ তারকা জুটির মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটছে শিগগিরই। কিন্তু শাকিব বা অপু- কারও কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই সেখানে। শাকিব খানও সরাসরি স্বীকার করেননি। আবার বিষয়টি উড়িয়েও দেননি। বরাবরই বলে এসেছেন, সময় হলে সবকিছু জানতে পারবেন।

২০০৮ সালে গোপনে বিয়ে করার পর মোটামুটি শাকিব ও অপুর সংসার সবার আড়ালে ভালোই চলছিলো। কিন্তু যখনি বিয়ে আর সন্তানের ব্যাপারটি জনসম্মুখেনিয়ে আসে অপু,  তখনই তাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। কারণ শাকিব ও অপুর সংসারে তৃতীয় পক্ষের আবির্ভাব! যার ফলে তাদের দু’জনের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরে যান। একপর্যায়ে তাঁদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যায়।

অপরদিকে গতকাল সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন অপু। পরদিনই অর্থাৎ আজ সকালেই কাউকে কিছু না বলেই ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। তবে অপু বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে- গতকাল রাতে বাথরুমে পা পিছলে পড়ে যান অপু। সিজারের সময় করা সেলাই ফেঁটে ব্লিডিং হতে থাকে। পরে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। কিন্তু সেখানে সন্তুষ্ট না হওয়ায় শুক্রবার সকালে তিনি কলকাতায় যান। এরপর সেখানকার এ্যাপলো হসপিটালে ভর্তি হন তিনি। যতদূর জানা গেছে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

অন্যদিকে শাকিব খান এখন ‘মাস্ক’ সিনেমার শুটিংয়ে থাইল্যান্ডে আছেন। এই সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার নুসরাত। অপুর বিষয়ে জানতে চাইলে শাকিব বলে, ‘অপুর বিষয়ে আপাতত কিছুই বলতে চাই না। কিছু হলে সবাই দেখতে পাবেন।’

সে সাথে বিবাহবিচ্ছেদের প্রসঙ্গ এড়িয়ে শাকিব বলেন, ‘এ নিয়ে বলার তেমন কিছু নেই। একটা মানুষের জীবন যেভাবে সুন্দর হবে, সেভাবেই সে সাজিয়ে নেবে। যিনি যেভাবে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন, সেটাই করবেন। মানুষ এত পরিশ্রম করে, এত কাজ করে কেন? একটু সুখের আশায়। আর তো কিছু না। সুস্থভাবে, সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই তো আমরা কাজ করি।এমন তো অনেকের জীবনেই হয়। শুরুতে জটিলতার মধ্যে থাকলেও পরে কিন্তু সবাই ভালো আছে। অনেক বিখ্যাত মানুষের জীবনেও এমন ঘটনা হয়েছে। আমি যত দূর জানি, তাঁরা সবাই ভালোই আছেন। তবে এটুকু বলতে পারি, যেটা আমাদের জন্য মঙ্গলজনক, সেটাই হবে।’

অন্যদিকে শাকিবের পরিবারের ঘনিষ্ঠজনের দাবি, অপু তার শিশুসন্তানের দেখাশোনা ঠিকভাবে করছেন না। বেশির ভাগ সময় গৃহপরিচারিকার কাছে আব্রামকে রেখে তিনি বাসার বাইরে থাকেন।

তবে দেশ ছেড়ে যাওয়ার কিছু দিন আগে সংবাদ সম্মেলনে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে অপু বলেন, ‘আমি ডিভোর্স নিয়ে এখনই কিছু বলব না। আর বিবাহবিচ্ছেদ হলে আপনারা তখন জানতেই পারবেন। বিষয়টি একান্তই ব্যক্তিগত। যদি এমন কিছু ঘটে, তা আমি নিজেই আপনাদের ডেকে জানাব।’

এদিকে শাকিব-অপুর বিচ্ছেদের পথে হাঁটার কারণ হিসেবে মিডিয়ার বিশিষ্ট জনেরাও অনেক কিছু বলছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিনিয়র পরিচালক বলেন, “সংবাদ মাধ্যমের বরাতে প্রাপ্ত খবরে যতটুকু বুঝতে পারলাম, শাকিব-অপু দু’জন দু’জনার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আর অবশিষ্ট নেই। কোনো সংসারে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে সে সংসার কখনোই টিকে থাকে না। চলতি বছরের এপ্রিলে শাকিব-অপুর বিয়ের খবর ফাঁস হওয়ার পর মাত্র একদিনই তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে। এরপর তাদের মধ্যে মুখ চাওয়াচাওয়িও নাকি হয়নি কখনও। শাকিব যা পছন্দ করেন না সেসবই নাকি অপু বেশি করছেন। আর এসব কারণে ডাবল পারিশ্রমিক দিয়েও অপুর সঙ্গে অভিনয় করাতে কোনো প্রযোজক-নির্মাতা শাকিবকে রাজি করাতে পারেননি। তবে বিচ্ছেদের মতো কোনো ঘটনা যদি ঘটে যায় তাহলে সেটা হবে খুবই দুঃখজনক। কারণ মিডিয়াতে এর প্রভাব পড়বে। এমনিতেই মিডিয়ার মানুষজনকে সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখে না। তার ওপর ওদের মতো বড় তারকা যদি এসব নিয়েই মেতে থাকেন তাহলে খারাপ ধারণাটা আরও বেশি বদ্ধমূল হবে। তবে এটাও ঠিক যে, মানসিকভাবে অশান্তিতে থেকে কোনো কাজ সঠিকভাবে করা যায় না। তারা যদি সংসার করতে না-ই চায় তাহলে আলাদা হয়ে যাওয়াই ভালো। অযথা মানুষকে সমালোচনা করার সুযোগ দিয়ে কী লাভ?’

এদিকে শাকিবের সেই ঘনিষ্ঠ সূত্র কিন্তু নিশ্চিত করেছেন শাকিব-অপুর বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটছে। এরমধ্যে আবার কেউ কেউ শাকিব এবং অপু দু’জনকেই বোঝানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু আদপে সেটা কতটুকু ফলপ্রসূ হবে তা অজানা। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।ধারণা করা হচ্ছে, শাকিব-অপুর বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে যে জল ঘোলা হচ্ছে তার অবসান হবে কেবল শাকিব দেশে ফিরে এলেই। এখন শুধু শাকিবের জন্য অপেক্ষা

SHARE

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here