নজীরবিহীন বৃষ্টিপাত ও জলাদ্ধতায় জাপানে ৬৬ জনের প্রাণহানি

জলাবদ্ধ নাগরিকদের উদ্ধারে রোববার জরুরি বিভাগের কর্মীরা হেলিকপ্টার ও নৌকা ব্যবহার করেছেন। কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের পর নদীর পানি ভেড়ে জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কারুশিকির একটি হাসপাতালে থাকা প্রায় ১০০ জনসহ অন্তত এক হাজার বাসিন্দা পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

দেশটির মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে টানা বৃষ্টির পর সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬তে পৌঁছেছে। প্রতিবছর জুলাই মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, পশ্চিম জাপানের কিছু কিছু এলাকায় এবার সে তুলনায় তিনগুণ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির আবহাওয়াবিদরা।

প্রায় পাঁচ লাখ বাসিন্দার শহর কারুশিকি বৃষ্টিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টেলিভিশনের ফুটেজে শহরটির মাবি মেমোরিয়াল হাসপাতালের বেলকনিতে রোগী ও হাসপাতাল কর্মীদের উদ্ধারের আশায় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। ফুটেজে অসংখ্য গাড়িকে কর্দমাক্ত পানিতে ভাসতে এবং বৃদ্ধাশ্রম থেকে একজনকে হেলিকপ্টারে করে উদ্ধারের চিত্রও দেখানো হয়েছে। মুষলধারে বৃষ্টিপাতের পর বন্যার পানিতে ঘরছাড়া হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।

বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যাও একরাতের মধ্যেই ৪৯ থেকে ৬৬তে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম ও জাপানের অগ্নি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এনএইচকের খবরে এখনও আরও ৬০ জন নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় অন্তত আরও একদিন বৃষ্টিপাত হবে বলেও পূর্বাভাস তাদের।বৃষ্টির কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি ও ভূমিধসের কারণে অনেকেই বাড়িঘরের ভেতরে কিংবা ছাদে আটকা পড়েছেন বলেও জানিয়েছে রয়টার্স।

এ ধরনের বৃষ্টির অভিজ্ঞতা আগে কখনোই হয়নি আমাদের। এটি খুবই বিপজ্জনক পরিস্থিতি,” সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বলেছেন জাপানের আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা জেএমএ-র এক কর্মকর্তা।নিখোঁজদের মধ্যে নয় বছর বয়সী একটি শিশুও আছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ভূমিধসের পর বাড়ির ভেতরেই ছেলেটি আটকা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই ভূমিধসে ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধসহ অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

উদ্ধারের পর এনএইচকে-কে এক নারী বলেন,“যা পরণে আছে শুধু তাই এখন আমার কাছে আছে; আমরা দোতলায় উঠে গিয়েছিলাম, কিন্তু পানি বেড়ে যাওয়ার পর বাধ্য হয়ে তিনতলায় উঠে যাই।

দুর্যোগ পরিস্থিতির খোঁজখবর ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে জাপানের সরকার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জরুরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র খুলেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিমাঞ্চলের বন্যা ও ভূমিধসকবলিত বিস্তীর্ণ এলাকায় সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর প্রায় ৫৪ হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। এখনো অনেকেই নিখোঁজ, অন্যদের দরকার সাহায্য। আমাদেরকে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে হচ্ছে, বলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।

শিকোকু দ্বীপের তিনটি এলাকায় বৃষ্টি সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে; সোমবার পর্যন্ত ওইসব এলাকাগুলোতে আরও ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৃষ্টি থেমে গেলেও এবং বেশিরভাগ এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে গেলেও ২০ লাখের মতো বাসিন্দাকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ এখনও বলবৎ রাখা হয়েছে। আরও ২৩ লাখ অধিবাসীকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।ভূমিধস বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে দেশটির এক চতুর্থাংশেরও বেশি এলাকায়। টানা বৃষ্টির কারণে পশ্চিম জাপানের কিছু এলাকার সড়ক ও রেল যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। শুক্রবার স্থগিত থাকলেও পরে শিঙ্কানসেনের বুলেট ট্রেন যোগাযোগ ছোট পরিসরে চালু করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here