দোহারে যাত্রার নামে নোংরামি, ক্ষুন্ন হচ্ছে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি

দোহার উপজেলার বিচ্ছিন্ন পদ্মার চর নারিশা জোয়ারে যাত্রা ও আনন্দ মেলার নামে অর্ধনগ্ন তরুনীদের অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শণ চলছেই। গত শুক্রবার রাতে ইউএনও অভিযানে গিয়ে অশ্লীলতার প্রমান পেয়ে ওই আয়োজন বন্ধ করে দিলেও পরদিন শনিবার থেকেই ফের তা শুরু করেছে আয়োজকরা।

জানা যায়, যাত্রার নামে অশ্লীল এ আয়োজনের সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত মেঘুলা ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম হাওলাদার সহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। যে কারনে ক্ষুন্ন হচ্ছে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি। ক্রমেই ফুঁসে উঠছে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেছেন অনেকেই।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দোহার থানা পুলিশ ও নারিশা ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন দরানীকে সাথে নিয়ে পদ্মা নদী পার হয়ে অতর্কিতভাবে নারিশা জোয়ারের যাত্রামঞ্চে উপস্থিত হন। ওই সময় যাত্রামঞ্চে এক তরুণী অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শণ করছিলেন। আর তরুন-যুককরা দর্শক হিসেবে ৫০০ ও ৩০০ টাকার টিকিট কেটে তা দেখছিলেন। এসময় ইউএনও’র উপস্থিতি টের পেয়ে গা’ঢাকা দেয়ার চেষ্টা করেন যাত্রার আয়োজক মেঘুলা ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম হাওলাদার। তবে একপর্যায়ে তাকে ডেকে আনা হয় ঘটনাস্থলে।

এসময় ইউএনও যাত্রার অনুমতি নিয়ে মেয়েদের অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শণের বিষয়ে আবুল কালাম হাওলাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। তখন ইউএনও আয়োজক আবুলকে বলেন, আপনি সামাজিক যাত্রা আয়োজনের অনুমতি নিয়ে অশ্লীলতা ও অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করে শর্ত ভঙ্গ করেছেন। কাজেই আপনি নিজে মাইকে ঘোষণা দিয়ে এ মূহুর্তে এ আয়োজন বন্ধ করবেন। নাহলে আমি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হব।

ইউএনওর কথা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে আবুল কালাম হাওলাদার মাইকে ঘোষণা দিয়ে যাত্রা ও আনন্দমেলার আয়োজন বন্ধ ঘোষাণা করেন। একইসাথে অঙ্গীকার করেন তিনি আর এমন কার্যকলাপের সাথে কোনদিন থাকবেন না। অভিযান চলাকালে আতঙ্কে গা ঢাকা দিতে শুরু করেন অনেকেই। এসময় ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থান থেকে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শণ করতে আসা ৭/৮ জন তরুণীও কৌশলে গা’ঢাকা দেন। এমন অভিযান ও যাত্রার নামে নোংরামি বন্ধ হওয়ার কথা শুনে স্বস্তি প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।

কিন্তু ইউএনও’র নির্দেশ অম্যান্য ও অঙ্গীকার ভঙ্গ করে ওই ঘটনার পরদিন থেকেই ফের যাত্রা মঞ্চে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শণের আয়োজন করা হয় গভীর রাত থেকে। গতকাল রবিবার রাতেও চলে অশ্লীল নৃত্য। এমন খবরে আবার ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। যে কোন সময় ঘটতে পারে দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনাও।

এ বিষয়ে জানতে যাত্রা ও আনন্দ মেলার আয়োজক আবুল কালাম হাওলাদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন বলেন, আমরা যাত্রার নামে এমন অসামাজিক ও নোংরামি কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানাই।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমিন বলেন, কালাম হাওলাদার শর্ত ভঙ্গ করে যাত্রার নামে পদ্মার চরে তরুণীদের দিয়ে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শণ করিয়ে সে শর্ত ভঙ্গ করেছেন। গত শুক্রবার রাতে অভিযান চলাকালে অশ্লীলতার প্রমান পেয়ে তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এরপরেও যদি এমন কর্মকাণ্ড চলতে থাকে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সুত্রঃ কালের কণ্ঠ ।

SHARE

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here