দোহারের নুরুল্লাহ্পুর মেলার নামে চলছে অশ্লীল নৃত্য, ঝুকছে এস এস সি পরিক্ষার্থীরা!

ঢাকার দোহার উপজেলার দীর্ঘ ৪১০ তম ওরস শরীফ উপলক্ষে নুরুল্লাহ্পুর ঐতিহ্যবাহী মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যা ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। যেখানে প্রতিবছর দেশে-বিদেশ থেকে হাজারো ভক্তের ঢ্ল নামে। যার ফলে সৃষ্টি হয় দোহারের বৃহঃ মেলার। আর তাই সময়-সুযোগ বুঝে মৌসুমি সময় হিসেবে বেছে নিয়ে মেলার ঐতিহ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পুতুল নাচ, সার্কাস আর জাদু খেলার নাম করে প্যান্ডেলের ভেতরে মেয়েদের নিয়ে চলে অশ্লীল নৃত্য। পাশাপাশি নৃত্য শেষে মেয়েদের নিয়ে অপকর্মে লিপ্ত হবার অভিযোগও রয়েছে। সরজমিনে গিয়ে দেখাযায়, পাশাপাশি কাপড় দিয়ে ঢাকা ৩ টি প্যান্ডেলের ভেতরের মঞ্চে কুরুচিপূর্ণ দৃশ্যে কিছু যুবতী নারীরা জামা-কাপড় খুলে প্রায় উলঙ্গ অবস্থায় সামনে বসে থাকা ১৫/২০ জন এস এস সি পরিক্ষার্থীরা ও সকল বয়সের ছেলে-বুড়োদের সামনে দাড়িয়ে দেখাচ্ছে অশ্লীল নাচ। নাচ দেখে সন্তুষ্ট হয়ে টাকাকড়ি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিচ্ছে সকলে। পাশাপাশি টাকা দেবার বিনিময়ে নারীদের একটু স্পর্শ পাওয়ার সুযোগ হচ্ছে তাদের। ঠিক তখনি কথা বলে কি যেনো ঠিকঠাক করে নেওয়া হচ্ছে! ভেতরে আবার মোবাইল বা ক্যামেরা ব্যাবহার নিষিদ্ধ। রাত পোহালেই এস এস সি পরিক্ষা, কিন্তু পরিক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে বই নিয়ে পড়ার টেবিলে না থেকে নুরুল্লাহপুর মেলায় ১০০ টাকার টিকেট কেটে অশ্লীল নাচে যুবতীদের অগ্নিময়ের স্বাদ নিচ্ছে পরীক্ষার্থীরা। তারই পাশে ৫/৬ টি স্থানে চলছে জুয়াড় আসর। সেখানেও একই চিত্রবিদ্যামান ছিলো। জানাযায় প্রশাসনের কাছ থেকে কোনোরূপ অনুমিত ছড়াই স্থানীয় কিছু ক্ষমতাবান ব্যাক্তিরা স্বেচ্ছায় প্রতিবছর এই অশ্লীল নাচের আয়োজন করে। আর তাই কুরুচিপূর্ণ দৃশ্য দেখতে মেলা প্রাঙ্গণে ঢল নামে আগামীর ভবিষ্যৎ এস এস সি পরিক্ষার্থী ও কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষের। ঘটে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা; কিন্তু সব জেনেও প্রশাসন কার্যত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মাঝে। সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টির এমন আয়োজনকে ঘিরে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মাঝে। বিভিন্ন ধরনের পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ্যে অশ্লীল আয়োজনের প্রতিবাদ জানাচ্ছে তারা। তাতেও সাড়া কোনোরূপ সাড়া মিলছে না প্রশাসনের। গোপনভাবে নাম না বলতে ইচ্ছুক এক মহিলা সর্দার জানায়, আমার আওতায় ১০ জন মেয়ে নিয়ে প্রতি রাতে ৫০,০০০(পঞ্চাশ হাজার) টাকা করে ৩ দিনের কন্টাক্ট করে এসেছি। যেখানে আসরে উপস্থিত সকল দর্শকের মন ভরাতে হবে যে যেই ভাবে চায় সেইভাবে। একইভাবে নাম না বলতে ইচ্ছুক ১৭ বছর বয়সী এক এস এস সি পরিক্ষার্থী জানায়, এলাকায় এমন সুন্দর মেলায় মেয়েদের নাচের গানের শব্দে ঘরে পড়ায় মন বসে না তাই একটু আনন্দ করতে মেলার নাচ দেখতে এসেছি, বাড়ি গিয়ে কি করবো? তাই নাচ না শেষ হওয়া পর্যন্ত বাড়িতে যাবোনা! মেলার ১ম দিন গত মঙ্গলবার রাত ১১:০০ টার সময় দোহার থানা ওসি তদন্ত ইয়াসমিন মুন্সী পৃথকভাবে ৩টি মঞ্চে গিয়ে অশ্লীল কার্যকলাপে বন্ধ করে চলে আসলে, ৩ মিঃ এর মাথায় তা শুরু হয়ে যায়। কিছুতেই তাদের রোধকরা যেনো সম্ভব নয়। এ বিষয়ে পরদিন দোহার থানা ওসি তদন্ত ইয়াসিন মুন্সী জানায়, আমরা প্রাথমিক ভাবে এইসব অশ্লীল নাচের মঞের কার্যকলাপ পরিচালনায় বাধা দিতে পারি কিন্তু তা ভেঙ্গে দেওয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই। শুধুমাত্র দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মহোদয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তা ভেঙ্গে দিতে পারেন। তারা আমাদের বললে আমরা তাদের নির্দেশে তা ভেঙ্গে দিতে পারি। দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমীন জানায়, আমি এই বিষয়ে এখনো অবগত নই। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো। তবে যদি কোনোরূপ প্রমান সাপেক্ষে আমি অভিযোগ পাই তাহলে তাৎক্ষণিক ভাবে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

SHARE

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here