ঢাবিতে দুই মাসে ১০ সাংবাদিকের ওপর হামলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে গেলো দুই মাসে ১০ সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। এসব হামলায় বেশির ভাগই করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার তাগিদ দেয়ার পরও কোনো ঘটনারই সুষ্ঠু বিচার হয়নি।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আসিফ ত্বাসিন ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান নয়ন এক বিবৃতিতে বলেন, অভিযুক্ত ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও সংগঠন থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে একটি প্রতিকূল পরিবেশে সাংবাদিকদের কাজ করতে হচ্ছে। এসব ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত।গেলো ১৬ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর বকশীবাজার এলাকায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন রেডিও টুডের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক নাজমুল হুদা ও দৈনিক সংবাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আবদুল্লাহ আল জুবায়ের। এ সময় বেসরকারি যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন আবদুল লতিফকে বেধড়ক মারধর করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।গেলো ১৫ জানুয়ারি উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আশিক আবদুল্লাহ অপু ও আলোকিত বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক মামুন তুষারের ওপর হামলা করা হয়। তাদের ধাক্কা দিয়ে মুঠোফোন কেড়ে নেয়া হয়। অকথ্য ভাষায় সাংবাদিকদের গালিগালাজ করা হয় এবং মুঠোফোন ভেঙে ফেলা হয়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত দেরি করে অফিসে আসার অভিযোগের তথ্য অনুসন্ধানে গিয়ে গেলো বছরের ১৭ ডিসেম্বর দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক কবিরুল ইসলাম কাননের ওপর হামলা করেন সেকশন অফিসার মো. নিজাম উদ্দিন, মো. আহসানুল কবির ও ছাত্রলীগ পরিচয়ে রেজিস্টারের ব্যক্তিগত পিএস শেখ মো. গিয়াস উদ্দিন।এছাড়া গেলো ২৮ নভেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিডিনিউজটুয়েন্টিফোর ডটকমের স্টাফ রিপোর্টার মাসুম বিল্লাহ ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের একজন নারী সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করেন ছাত্রলীগের বিজয় একাত্তর হলের কিছু নেতা-কর্মী। গেলো ১২ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার স্টাফ রিপোর্টার সাইফ সুজন ও বাংলানিউজ টুয়েন্টিফোরডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক কবির আবরারের ওপর চড়াও হন দর্শন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপরোক্ত কোনো একটি ঘটনারও বিচার করেনি। কোনো কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটি গঠনের নামে বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করার কৌশল নেওয়া হয়। ছাত্রলীগও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। বরং এর আগে একাধিক সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় বহিষ্কৃতদের নতুন করে পদায়ন করা হয়েছে।

SHARE

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here