জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী স্বীকৃতিপত্রে নাজিব রাজাকের স্বাক্ষর!

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার মার্কিন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মালোয়েশিয়ায় কয়েক হাজার মুসল্লি বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।  সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন মালায়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হাজী নাজিব তুন আব্দুর রাজাক।  তিনি ট্রাম্পের প্রতি জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। 

এসময় প্রধানম্নত্রী জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা দিয়ে স্বীকৃতিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। শুক্রবার বাদ জুমা মালয়েশিয়ার পিং সিটি পুত্রাজায়া পুত্রা মসজিদ সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দেশটির প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। সমাবেশে নাজিব তুন রাজাক বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে হোয়াইট হাউস সফরের সময় ভেবেছিলাম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামের পবিত্রতা রক্ষার নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করবেন না।

যুক্তরাষ্ট্র একটি মহৎ শক্তি হতে পারে। কিন্তু মালয়েশিয়া সেদিকে তাকায় না। আমরা অন্য জাতির জন্য একটি মডেল। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার বর্তমান পাকাতান হারাপান পার্টির  চেয়ারম্যান ড. মাহাথির মোহাম্মদ।

মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন বারিসান ন্যাশনাল কর্তৃক আয়োজিত এই সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পিএএস, পিকেআর, পার্টি আমাননা নেগারা, পার্টি পীরভুমি বারসাতু মালযেশিয়া এবং বিভিন্ন বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও ছিলেন সমাবেশে।

তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া তার মর্যাদা, শক্তি এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য তার সমর্থন থেকে উত্থাপিত কোনো চাপ মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে যদি দেশে আমরা মুসলমানরা একতাবদ্ধ হই।

পরে তিনি জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা দিয়ে একটি স্বীকৃতিপত্রে স্বাক্ষর করেন।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে জেরুজালেম ইস্যুতে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে ১৭২ দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘বাতিল ও প্রত্যাখ্যান’ করে একটি রেজ্যুলেশন পাস হয়। জাতিসংঘের ইতিহাসে অভূতপূর্ব এ ঘটনার মাধ্যমে জেরুজালেম ইস্যুতে কোনঠাসা হয়ে পড়ল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।

আগের দিনের যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও চাপকে অগ্রাহ্য করে ফিলিস্তিনের সমর্থনে ভোট দেয় ১২৮টি দেশ। মাত্র নয়টি দেশ ছিল ইসরাইলের পক্ষে। ৩৫টি দেশ ভোট দানে বিরত থাকে। এর আগে সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জেরুজালেম প্রশ্নে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করে মিশর। নিরাপত্তা পরিষদের ১৪ সদস্য দেশ ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়।

স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেওয়ায় ওই প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়। এই ভোটাভুটির আগেই সাধারণ পরিষদের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতি হুঁশিয়ারি বার্তা পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন স্থায়ী প্রতিনিধি নিক্কি হ্যালি ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ভোট দিলে সেই দেশগুলোকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন’

মঙ্গলবার তিনি বলেছিলেন, সাধারণ পরিষদে ‘আমাদের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া দেশগুলোর’ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিবেদন দিতে বলেছেন।

এই মার্কিন দূত হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ভোটাভুটিকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন। তিনি এই ভোটাভুটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।

যারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভোট দেবে— আমার ওপর নির্দেশ আছে যাতে ওই দেশগুলোর নাম সংগ্রহ করে তাঁর (ট্রাম্প) কাছে একটা প্রতিবেদন দিই। আমরা জেরুজালেম প্রশ্নে প্রত্যেকটা ভোটের হিসাব রাখব।’

ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে ৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।  যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম দেশ, যে এই স্বীকৃতি দিল।  দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানায় আরব বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

SHARE

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here