গোপনে ওজন বাড়ানো অভ্যাসগুলো

প্রত্যেক মানুষের এমন কিছু অভ্যাস রয়েছে যা অগোচরে ক্ষতি করে যায়। যদিও এদের ক্ষতিকর বলে মনে হয় না।ক্ষতি চোখের পড়ে না। বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাসে এ বিষয়গুলো অনেক বেশি দেখা যায়। কেউ হয়তো বুঝেও উঠতে পারেন না যে, অভ্যাসগুলো কতটা ক্ষতিকর। এখানে বিশেষজ্ঞরা এমনই কিছু আপাতদৃষ্টিতে ক্ষতিকর নয় বলে বিবেচিত অভ্যাসের কথা তুলে ধরছেন। আদতে এগুলো বদভ্যাস। এদের চর্চা আজ থেকেই বাদ দিতে হবে। নয়তো আপনি অনেক সচেতন থাকা সত্ত্বেও মুটিয়ে যাবেন। আধুনিক জীবনে স্থূলতা বড় এক সমস্যায়। এর কারণে বহু রোগ বাসা বাঁধে দেহে।
সকালের নাস্তা না খাওয়া
অনেকেই ওজন কমানোর জন্যে সকালের খাবার খান না। মনে হয়, এতে তো ওজন কমবেই। অথচ ঘটনা ভিন্ন। রাতে ঘুমানোর সময় দেহ বিপাকক্রিয়া সম্পন্ন করে। তাই সকালের নাস্তা জরুরি। নয়তো বিপাকক্রিয়া এলোমেলো হয়ে যাবে। ফলে এক ধরনের অলসতা ভর করে। তাই সকালের ভরপেট নাস্তা করা দরকার। এতে দেহ-মন চনমনে থাকবে। পরিশ্রমী হয়ে উঠবেন। এতে ওজন বাড়বে না। আর অলসতা ভর করলে ওজন তো বাড়বেই।
অমনোযোগী খাওয়া
কর্নেল ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় বলা হয়, আপনি কম খান বা বেশি, খাওয়ার মনোযোগী না হলে বিপদ। মানুষ যখন মনোযোগ ছাড়া খায় তখন অনেক বেশি খেয়ে ফেলে। এটা তো ক্ষতিকর হবেই। কিন্তু মনোযোগের সঙ্গে খেলে সচেতনভাবে পরিমিত খাওয়া হবে। ফলে ওজন বাড়ার কোনো সুযোগ নেই।
গভীর রাতের খাওয়া
অনেকেই ঘুমের মধ্যে জেগে বা গভীর রাতে কিছু খাওয়ার জন্যে পাগল হয়ে ওঠেন। পুষ্টিবিদদের মতে, সেই সময় আসলে উচ্চমাত্রার প্রোটিনপূর্ণ খাবার খেতে মন চায়। ঠিক ওগুলোই খাওয়া হয়। আর তা শরীরের জন্যে ভালো নয়। তাই এভাবে গভীর রাতে খাওয়ার অভ্যাস বাদ দিন।
ইচ্ছেমতো স্ন্যাক্স
ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনার গবেষণায় বলা হয়, মন চাইলেই স্ন্যাক্স গেলা ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। আসলে এ ধরনের খাবার প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি থাকে। চিপস, সোডা এবং ক্যান্ডির মতো খাবার তেমনই। আসলে বিকালের নাস্তায় স্বাস্থ্যকর হালকা স্ন্যাক্স মন্দ নয়। কিন্তু এগুলো ইচ্ছেমতো খেলে ওজন বাড়বে।
আবেগীয় খাদ্যাভ্যাস
বিশেষ করে নারীদের এমনটা ঘটে। তারা রান্না করে অতি আবেগের সঙ্গে খান। আর সেই আয়োজন শেষ হয় অতিরিক্ত খাওয়ার মধ্য দিয়ে। এতে পরে ওজন বাড়তে থাকে তাদের। তাই সরল মনে খেতে হবে। শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার পরিমিত খেতে হবে।
না ঘুমানো
পর্যাপ্ত ঘুমালে কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। আর ঘুম না হলে ওজন বাড়তে থাকবে। দেহের কাজের জন্যে যে পরিমাণ শক্তি দরকার তা এনে দেয় ঘুম। এ সময় কিন্তু খাবারও পরিপূর্ণভাবে হজম হয়। যদি না ঘুমান হবে খাবার হজম হবে না। ফলে ওজন বাড়বে। তাই ঘুমের জন্যে ৭-৮ ঘণ্টা বরাদ্দ রাখুন। নয়তো ওজন বাড়বে।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

SHARE

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here