ইসরাইলি সেনার গুলিতে আরও ৪ ফিলিস্তিনি নিহত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির প্রতিবাদে গাজা ও পশ্চিম তীরে নতুন করে সংঘর্ষে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিন শতাধিক ফিলিস্তিনি। এই চারজনকে নিয়ে সম্প্রতি বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। আহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। 

শুক্রবার জুমার নামাজের পর গাজায় বিক্ষোভকালে ইসরাইলি সেনার গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৫০ জন আহত হন। অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে দুই ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী নিহত এবং ১০ জন আহত হন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। খবর এএফপির।
জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতির প্রতিবাদে ইন্তিফাদা বা সর্বাত্মক প্রতিরোধ পালন করছেন ফিলিস্তিনিরা। ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর দুনিয়াজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠে। ৮ ডিসেম্বর থেকে তৃতীয় ইন্তিফাদার ডাক দেয় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। ইন্তিফাদার অষ্টম দিনে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৪০ ফিলিস্তিনি।
ইহুদিবাদী ইসরাইলি সেনাদের বর্বরোচিত হামলার পর তেল আবিবের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।
সংগঠনটি শুক্রবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলি সেনাদের হামলায় ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের শাহাদাতের ঘটনায় আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে ইহুদিবাদী ইসরাইল একটি অপরাধী সরকার।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কখনই ট্রাম্পের ঘোষণাকে বাস্তবায়িত হতে দেবে না বরং নিজেদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায় করে ছাড়বে।
ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পরপরই জেরুজালেম, গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীরের রামাল্লা, হেবরন, বেথলেহেম, নাবলুস, কালকিলিয়া, তুলকার্ম ও জেনিনের রাস্তায় নেমে আসেন মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিরা। বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলে পড়ে ইসরাইলি বাহিনী।
হতাহত হন বহু বিক্ষোভকারী। তারপরও দমে যাননি মুক্তিকামী মানুষ। প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন তারা। ট্রাম্প আর নেতানিয়াহুর ছবি পুড়িয়ে, আমেরিকা-ইসরাইলের পতাকা জ্বালিয়ে দিয়ে স্লোগান তুলছেন, ফিলিস্তিনিদের রাজধানী নির্ধারণের অধিকার আমেরিকাকে কেউ দেয়নি।
আর হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, ইসরাইল নামে কোনো দেশ নেই। তাই এর কোনো রাজধানীও থাকতে পারে না। ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ সংগ্রামের বিপরীতে তাদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী।
ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের রোডম্যাপ আছে- সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার রোডম্যাপের কথা স্বীকার করেছে সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের বলেছেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার বিষয়ে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ রয়েছে। শুক্রবার ‘ফ্রান্স টুয়েন্টিফোর’ টিভি চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলি আঁতাতের বিষয়ে এ স্বীকারোক্তি দেন তিনি।
আদেল আল জুবায়ের বলেন, আমাদের একটি শান্তি প্রক্রিয়া রয়েছে। ওই প্রক্রিয়ার পর ইসরাইলের সঙ্গে সব মুসলিম ও আরব দেশের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে এবং এটি হবে পরিপূর্ণ সম্পর্ক। এর অর্থ হল, কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকবে। আরব ও ইসরাইলিদের মধ্যে শান্তির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আন্তরিক বলেও দাবি করেন তিনি। আল জুবায়ের বলেন, ইসরাইল নয় বরং ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষেই সৌদি আরব কাজ করে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্র ভূমি বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় বিশ্বের মুসলমানরা যখন ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন ঠিক তখনি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দখলদারদের সঙ্গে পরিপূর্ণ সম্পর্কের রোডম্যাপের কথা স্বীকার করলেন।
SHARE

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here