অ্যাপলে বড় ধরণের ত্রুটি, সারাতে ব্যস্ত প্রতিষ্ঠানটি

আমেরিকার প্রযুক্তি বিষয়ক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি অ্যাপল বলছে তাদের ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমে বড় ধরণের ত্রুটি ধরতে পেরেছে তারা। এখন সেটা সমাধান করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর বিবিসর।

অ্যাপলের সর্বশেষ সংযোজন ম্যাক ওএস হাই সিয়েরা’তে যে ত্রুটি ধরা পড়েছে তার ফলে যে কেও পাসওয়ার্ড ছাড়ায় যন্ত্রটিতে প্রবেশ করতে পারবে এবং ব্যবহার করতে পারবে। একই সাথে শক্তিশালী কিছু প্রশাসনিক ক্ষমতা পেয়ে। অ্যাপল একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে ‘আমরা ত্রুটি সমাধান করার জন্য একটি সফটওয়্যার আপডেট করার কাজ করছি।’

অ্যাপলের এই মারাত্মক ত্রুটিটি প্রথম আবিষ্কার করেন একজন তুরস্কের ডেভেলপার, যার নাম লেমি এরগিন। তিনি দেখতে পান যে ইউজার নেমে ইংরেজিতে ‘root’ লিখলে পাসওয়ার্ড এর জায়গাটা খালি বা শূন্য হয়ে পড়ে। এবং ‘enter’ বাটনে কয়েক বার চাপ দিলে, সে যে যন্ত্রে বা ম্যাকের সিস্টেমে ঢুকতে চাচ্ছে সেখানে সহজে ঢুকতে পারছে।

এদিকে লেমি এরগিন অ্যাপলের এই ত্রুটির কথা প্রকাশ করায় সমালোচনার শিকার হয়েছেন। তবে এত বড় সমস্যা যে অ্যাপলের সিস্টেমে রয়েছে, এবং সেটা তারা আগে থেকেই জানত, সেই বিষয়টি অ্যাপল স্বীকার বা অস্বীকার কোনটাই করেনি।

অ্যাপলের সিরি প্রোগ্রাম শিশুর জীবন বাঁচালো এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় এক শিশুর জীবন বাঁচাতে আইফোনের সিরি প্রোগ্রামের সাহায্য নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ডেকেছিলেন শিশুটির মা।

এক বছর বয়সী শিশুটি যখন আর শ্বাস নিচ্ছিল না, তখন শিশুটির মা তার আইফোন নিয়ে দ্রুত কাছে ছুটে যান। এসময় তার হাত থেকে আইফোনটি মেঝেতে পড়ে যায়। ফোন তোলায় সময় নষ্ট না করে মা স্ট্যাসি গ্লিসন ব্যস্ত হয়ে পড়েন মেয়ের মুখে মুখ দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখতে।

তবে একই সময়ে তিনি তার আইফোনের দিকে চিৎকার করে ‘সিরি’ প্রোগ্রাম সচল করেন এবং স্পিকারফোনে অ্যাম্বুলেন্স ডাকার জন্য নির্দেশ দেন।

স্ট্যাসি গ্লিসন যখন মেয়ের শ্বাস চালু রাখার চেষ্টা করছিলেন, একই সময়ে তিনি স্পিকারফোনে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং কথাবার্তা চালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

স্ট্যাসি গ্লিসন জানিয়েছেন, এর ফলে হয়তো তিনি তার মেয়ের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি বলেন, ঐ মুহূর্তে যদি ফোনটি তার হাত থেকে পড়েও না যেত, তারপরও তখন তার পক্ষে ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে অনেক বেগ পেতে হতো। আইফোনের ‘সিরি’ প্রোগ্রামকে বর্ণনা করা হয় ‘পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ হিসেবে। ভয়েস কমান্ড দিয়ে ‘সিরি’ প্রোগ্রাম দিয়ে আইফোন এবং এর বিভিন্ন অ্যাপ চালানো যায়।

মিস গ্লিসনের এক বছর বয়সী কন্যা ‘জিয়ানা’ এখন পুরোপুরি সুস্থ। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, তার জীবন রক্ষার জন্য ঐ সময়ের প্রতিটি সেকেন্ড ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

স্ট্যাসি গ্লিসন তার এই অভিজ্ঞতা জানিয়েছিলেন অ্যাপলকে। অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমে এই খবর প্রচারিত হওয়ার পর এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

SHARE

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here