অবশেষে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনায় সৌদিআরব!!

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে আমেরিকার স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ। খবর বিবিসি।

আমেরিকার প্রেসিডেন্টের একতরফা এই স্বীকৃতিকে ‘অন্যায্য ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সৌদি আরব।

বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ভাষণে তেলআবিবের পরিবর্তে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীত হিসেবে স্বীকৃতি এবং আমেরিকার দূতাবাসকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেন। এরই মধ্য দিয়ে পরিবর্তন হয় জেরুজালেম নিয়ে আমেরিকার কয়েক দশকের নীতির।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পর সৌদি রয়াল কোর্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমেরিকার এই পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়ার প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, অবশ্যই এটি ইসরায়েলের জন্য একটি পুরস্কার স্বরূপ। কিন্তু এই স্বীকৃতি যে ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনের ভূমি  দখল করতে আরো উৎসাহিত করবে, তাও উল্লেখ করেন তিনি।

জেরুজালেম পবিত্র ভূমি হিসেবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ের কাছেই গুরত্বপূর্ণ। আর এটি  দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্বও চলছে বহু বছর ধরে। ইসরায়েল সব সময় জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে, অন্যদিকে ফিলিস্তিনের নেতারা পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বলে আসছে।

তবে জেরুজালেমে ইসরায়েলের রাজধানী স্থানান্তর ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ডেকে আনবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জর্ডান ও তুরস্ক । ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে বেশ শঙ্কিত সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা।

উল্লেখ্য যে, ১৯৯৫ সালেই মার্কিন কংগ্রেস অনুমোদিত এক আইনে ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু সাবেক সব প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার জন্য স্বাক্ষর করেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ঠিক পথে হেঁটেছিলেন ট্রাম্পও। কিন্তু এবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন তিনি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর বিলম্বের জন্য প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের শেষ দিনে  স্বাক্ষর করবেন না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

এন/এপি

SHARE

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here